Saturday, December 31, 2016

হালখাতা ।। আল ফারুক

তোমারে জেনেছি গতকাল
বাসি হলো জানাশোনার হিসাব নিকাশ
গত হলো বছরের শেষ বৈকাল।
খুলেছি নতুন খাতা পড়েনি আঁচড়
লেখা হবে নতুনের শুভ ইতিহাস।
কলমের কালি দিয়ে, কালো তো বটেই
তাতে রবে পাণহীনা প্রাণ।
জেগে ওঠ কায়া মন মানব মনে
মহা সুখ সমারোহে উল্লাসে আজ
কত কিছু আজো বাকি হলো না সারা
কত দানে বাকি পড়ে কত মহাকাজ।
আমার এই প্রাণখানি আজো ডেকে যায়
দিতে বাকি আমার ঐ মহাবলি দান।
১ জানুয়ারি, ২০১৭

জয় বাংলা ।। আল ফারুক

আজো ভয় হয় এই বাংলার স্বাধীনতা কার হাতে
আজো ভয় হয় ফিরে যাব কি না ২৬শে মার্চ রাতে!
আজো হয় খুন নারী ধর্ষণ হানাদার তবে কারা
লন্ঠিত হয় ভীরু মানুষেরা ইয়াহিয়া করে তাড়া।
ক্ষমতার কাছে নতজানু আজো ভুখা মানুষের দল
আজো হয় খুন নারী ধর্ষণ মার খায় দুর্বল।
*** *** *** *** *** *** *** *** ***
মুছে যাক গ্লানি অশুভ ছায়ার রক্ত পিপাসু হাত
স্বাধীন বাংলার মুক্ত আকাশে আসুক নয়া প্রভাত।
দূর হোক নিশা আগ্রাসনের জুলুমের হোক শেষ
পরাধীনতার ক্লান্তি ঝেড়ে জেগে ওঠ প্রিয়দেশ।
দূর হোক জরা শান্তির খড়া লজ্জিত হোক হেম
জয় বাংলা জয় বাংলা জয় স্বদেশের প্রেম।
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

অসমাপ্ত জীবনের সংক্ষিপ্ত হিসেব ।। আল ফারুক

এখানে তোমার প্রশান্তি এঁকে দিব
নীলিমার মাঝে এই শূন্যে।
আরো উপরে অদৃশ্য দূরে ছায়াপথ হতে
অপলক চেয়ে রব কালো চোখের ভিতর
না পাওয়ার হতাশার জন্যে।
আরো দূরে যেখানে হেরে আসে কল্পনা
সেখানে পাঠাব মন।
শত বর্ষ পরে আলোকের পথ ধরে
উদভ্রান্ত মেঘের মতন
উড়ে উড়ে বাতাসের ঝাপটার অবহেলা সয়ে
হারাব উদ্দেশ্যের প্রত্যাশিত গতিপথ।
হঠাৎ অচেনার পথ ধরে
ক্লান্তির নিঃশ্বাস ফেলে থমকে দাঁড়াব
চেনা মুখের অচেনা হাসির শব্দে।
তখন আমার শুভ্র কেশে প্রকৃতির মুখোশ
সাদাকালোর দৃষ্টি নিয়ে
হাসি (হতাশার) মুখে ফিরে যাব আমার গন্তব্যে।
রহস্যের বদলে যাওয়া রং
ধিক্কার দিবে অতীতের সব লুকোচুরি-
মিথ্যে প্রেম, মিথ্যে জীবন, মিথ্যে আমি।
সঞ্চয় শূন্য পথিক ফিরে যাবে
যেমন খালি হাতে এসেছিল শতাব্দীর সুচনায়।
সাথে কিছু পাপ কিছু ঋণ কিছু অভিশাপ নিয়ে...
১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

Monday, December 5, 2016

পুরাতন বন্দনা ।। আল ফারুক

নতুনের কাছে আমি পুরাতন
আমি অতি বেশি নষ্ট
নতুনেরা জানুক পুরাতন হলে
পাবে তারা এই কষ্ট।
আমি পুরাতন নতুনও ছিলাম
ছিলাম একদা খুশি
আজ পুরাতন একাকি কষ্টে
অতিতের স্মৃতি পুষি।
গায়ে ছিল বল মনে ছিল রঙ
যা খুশি করেছি হেসে
আজ অসহায় নিয়েছ সকলি
শোন হে নতুন এসে।
আমি কদাকার হেসোনা তা'বলে
আমাতে রয়েছে ভিত
এ মোরে সেবিলে সেবা তুমি পাবে
সব হারে হবে জিত।
৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

Thursday, December 1, 2016

মাটির টানে ।। আল ফারুক

মহাপৃথিবী বিশাল এ ধরণী খুঁজে
এই বাংলার মায়াবী পথেই খুঁজে ফিরি মোর গ্রাম
সোজা পথ বাঁকা পথ চৌচির রৌদ্রে
ঘামে ভেজা কায়া নিয়ে লই বিশ্রাম।।
কতশত আশা নিয়ে পিপাসা কাতর হয়ে
হেঁটে হেঁটে বহুপথ মহাদেশ ঘুরি
সাগরের তীর ঘেঁসে লোনা জলে ভেসে ভেসে
মুক্তা মানিক কত এলো ভুরিভুরি।
কত জ্ঞান কত দেশে লভেছি অট্টহেসে
কত রূপে অপরূপ হলো দরশন
হিমালয় পাদদেশে বালুকের সাথে মিশে
প্রিয়কের প্রেমে হরো মন।
কত রঙ কত খেলা বিরহ বিজন বেলা
ভেসে ওঠে তারি মাঝে দেশ
বরষার পথঘাট সবুজের ধানক্ষেত
দোলা দিয়ে প্রাণে তোলে সুখের আবেশ।
প্রাসাদের চূড়া ছুঁয়ে মেঘের কোলেতে ভীড়ে
ভরেনা'ত কিছুতে এ মন
কতকাল পরে ফেরা তবুও কি যায় ছেঁড়া
মাটিতে মিশানো এই প্রিয় বন্ধন!
১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রাণাঞ্জলি ।। আল ফারুক

সখি, এ শুধু মোর ভাগ্যের লেখা
বিপদ ডাকিয়া আনি
মুঠো মুঠো সুখ ঝড়িয়া পড়ে
অলক্ষ্যের কুরবানি।
যাহা চাই হাতে জোটে না সে মোর
জোটে তাই যাহা চাইনা
কাছে যারে পেতে ছুটিয়া আসি
কাছে কভু তারে পাইনা।
হাতে ধরি হেম পুড়ে হয় ছাই
ছাই তো হয় না হেম
যত গ্লানি জোটে এ মোর কপালে
জোটেনা কভুও প্রেম।
কত তরী যায় পাড়ি দিয়ে কত
পাথার তরঙ্গ ঢেউ
আমর এ তরীখানি ডোবে হাটুজলে
তুলিতে আসে না কেউ।
কত কারে দেখি উদাসী বিবাগী
পায়ে ঠেলে প্রিয়জন
আমি সখি কত মিনতি করেও
হারাই প্রাণের ধন।
দেখি শুধু আমি পরিহাস আসি
আমাতে পেতেছে ঠাঁই
প্রাণ পেতে দিয়ে লজ্জা জিতেছি
ভালোবাসা জিতি নাই।
১ ডিসেম্বর, ২০১৬

মুসলিম ।। আল ফারুক

তবুও মুক্তি দে মৃত্যুর বিনিময়
পারিনে বইতে বিষে ভরা দেহ
আশীবিষে করে ক্ষয়।
আমি যে জন্মেছি লঘুদের ঘরে
তাই ওরা বলে-
"এরা তো মানুষ নয়"।
আমি যে জন্মেছি ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে
গাজা পশ্চিম তীর, অথবা সিরিয়ায়
আফগানিস্থান কাবুলে কিংবা ইরাকি হয়ে
আমি যে মুসলিম আরাকানের রোহিঙ্গা
এখানে মানুষ নেই অথবা মানবতা
আমি যে মুসলিম আরবের ক্বাবাকে ভালোবাসি
ক্বাবার স্রষ্টায় আমার অটল বিশ্বাস।
তাই ওরা বলে-
"এরা তো মানুষ নয়"।
এখানে মানবতা নেই এরা যে মুসলিম!
এদের কেউ নেই-
বস্তুবাদী, পুজিবাদী, সম্রাজ্যাদী
এরা তো এমন নয়।
কি বিস্ময়! পৃথিবী বিতাড়িত হয়ে
মহাকালের অন্ধকারে বিলীন হতে চলেছি।
একদিন পৃথিবীর ইতিহাসে আলোচনা পর্যালোচনা শেষে
আমারা হবো- ডাইনোসারের মত!
কোথাও শব্দ নেই-
শুধু মুসলিম এই পরিচয় নিয়ে
অতি ভীতু আজ! বাঘের গর্জন নেই
বিড়ালের ছানারা আজ শুধু মুক্তি চায়!
আপনারি কবর আপনি রচে করি মৃত্যুর ভয়
শত্রুরা হাসে মহা উল্লাসে
বলে মারো আর মারো-
এরা তো মানুষ নয়, এরা তো মানুষ নয়।
২৬ নভেম্বর, ২০১৬

Thursday, November 17, 2016

মহাবীর ।। আল ফারুক

বিপ্লব হেতু শির উঁচু করি দাঁড়ালে কে মহাশির
লক্ষ্যে অটুট দুর্গম পথে নির্ভীক স্থিত ধীর।
শোষণ পীড়ণ রুখে দিতে আজ রুষ্ট বিশ্ববীর
মুখে উঠে ধ্বনি উঁচু তর্জনী নারায়ে তাকবীর।
ভাঙ ভাঙ কারা পাষাণের ধারা উম্মাদ উম্মাদ
নিবি যারা আয় বুকপেতে আজ শহীদি মৃত্যু-স্বাদ।
হেকে আসে বীর দৃপ্ত পদে মৃত্যুরা পায় লজ্জা
কুরবানি দিতে মহাপ্রাণ হাসে কাফন পরা সজ্জা
কুরানের বাণী ধ্বনিত হৃদয়ে মুখের স্বর্গের হাসি
শঙ্কিত প্রাণে হিংসারা মরে ক্রোধে মিথ্যার-দাসি
অবিনাশী প্রাণ ফাঁসির কাষ্ঠে করে মৃত্যুর জয়
শপথের সাথীরা মরেনা কখনো মরে হয় অক্ষয়।
যুগবাণী যারা শুনাতে এসেছ তিমির রাত্রি ছেঁচে
মহাকালে তব ছায়া রবে পড়ে লক্ষ বছর বেঁচে।
পৃথিবীর বুকে ঢাকা পড়ে গেলে সূর্যের আলোখানি
গহীনে হারাবে আলোকের পথ সত্যের যুগবানী।
শোষণ পীড়ন রুখে দিতে জাগো পৃথিবীর মহাবীর
আল্লাহ্‌ মহান আল্লাহ্‌ মহান নারায়ে তাকবীর।
১৭ নভেম্বর, ২০১৬

আমার ঈশ্বর ।। আল ফারুক

আমার ঈশ্বর অবিনশ্বর
যায় না তাঁকে গড়া।
আমার ঈশ্বর জগদীশ্বর
যায় না তাঁকেও ধরা।
আমার ঈশ্বর মহানীশ্বর
রোধে বায়ু ঝড় গর্জন
আমার ঈশ্বর অবিনশ্বর
হয় না সে বিসর্জন।
আমার ঈশ্বর আদি-অন্ত
নেই তার কোন অংশ
আমার ঈশ্বর এক ও অসীম
নেই পিতা নেই বংশ।
আমার ঈশ্বর বিশ্বেশ্বর
বিশ্বে ব্যাপ্তি তাঁর
আমার ঈশ্বর মৃত্যুঞ্জয়ী
নেই তাঁর সংহার।
১৪ নভেম্বর, ২০১৬

প্রার্থনা ।। আল ফারুক

ঘরের বাহির হয়ে বাঁধা পড়ি কত ভয়ে
এ জগতে সবি অচেনা
কত শত চেনা মুখ আড়ালের সুখ দুঃখ
বিধাতা হে তাও ঘোচেনা।
আমারে কর হে ক্ষমা যত কিছু হলো জমা
আমার এই ক্ষণ পলকে
এবারে মুক্তি দাও যাহা তুমি ত্রুটি পাও
তা না হলে দিবে বলো কে?
অধম হয়েছি বলে যেও না গো পথে ফেলে
আমার এই মিনতি বলি
আমার এই হীন মন না চিনে সে খাঁটি ধন
তাই আজ বিপথে চলি।
মিটে দাও ক্ষুধা ভয় মনের এত সংশয়
দাও তব অমর বাণী
আমারে খর্ব করো আমারে মুক্ত করো
ফেলো তব চরণে আনি।
৩ নভেম্বর, ২০১৬

জন্মদিনের শুভেচ্ছা ।। আল ফারুক

মুছে যাক প্রিয়া চোখের নিচে জুমে থাকা কালো কালি
সম্মুখে এসে গোলাপ ছড়িয়ে শুভদিনে হাততালি।
এ আমার শুভেচ্ছা নয় হাজার বছরের ভালোবাসা
এ যেন তোমার বন্ধন ছুটে আরো বেশি কাছে আসা।
দূরত্ব যত থাক- দূরত্ব এ যেন সবটায় অনন্ত ভুল
দূরত্ব যত হোক- এ যেন বিশাল সাগরের দুটি কূল।
হোক না দূরে এ তো এক অভিন্ন বিশালের দুটি ধার
বায়ু মেঘে জলে বিশালের মাঝে হয়ে আছি একাকার।
কাছে থাকি পাশে থাকি থাকি যেথা আরো যত দূর
ভেসে যাবে সুখ শোকের ছায়ায় তব কথা মোর সুর।
মনে যদি পড়ে হৃদয়ের মাঝে প্রগাঢ় কি ভাসা ভাসা
ধরে নিও আমিই ছিলাম তথায় হয়ে সেই ভালোবাসা।
পৃথিবীর 'পরে নাহি যদি রয় আমার এই কায়া ভার
মনে করে নিও ওপাড় হতেও আভা রবে শ্রদ্ধার।
আমার এই মুখখানি মনে পড়ে যাবে ঘনিলে আঁধার
আমি রব ঘুমে মায়া হয়ে ভূমে না ফিরিলে তবু আর।
হাজার বছর পরে আবার তোমাতে ঝরে শিশিরের জল
পুষ্প পাঁপড়ি নেড়ে আমার এই ভালোবাসা করবে সে ছল।
৩১ অক্টোবর, ২০১৬

পরিচয় ।। আল ফারুক

ঘৃণা করে ছোট বলে লজ্জা দিলে
তাতে কি বেড়েছে তব মান?
আমি যে মানব শিশু বিধাতার গড়া
আমাতে রয়েছে ভগবান।
আমি হেথা ছোট নই ক্ষুদ্র বলে
বিশালের নিমেষ প্রকাশ
দ্রোহে-তাপে শোকে-শাপে পিষ্ট বলে
লোভে লাভে নেই অবকাশ।
তোমাতে কি আছে বেশি মৃতিকাময়
কিসে হলে সেরা তবে আজ
এসেছ শূন্য হাতে যাবে কিছু তব সাথে
পড়ে রবে তোমার এই সাজ।
(অসমাপ্ত)
২৬ অক্টোবর, ২০১৬

শেষ যাত্রা ।। আল ফারুক

কিছু তার গুনে যদি পড়ে মনে ডাকিব আবার
এই খেলাঘর আপন কি পর ফিরিয়া পাবার?
যে গিয়াছে চলি ভরে অঞ্জলি দুমুঠো সুখে
আসিলে আসিতে পারে তব দ্বারে তব দুখে
বুক পেতে হাসি মুখে সব হারাবার।
তা বলে কি পাবে তারে বিধাতার এ সংসারে
যে গিয়াছে সব ছেড়ে- ফিরিয়া আবার?
হাসি মাখা দিনগুলি ফেলিয়া যে গেল ভুলি
তাহারে ফিরাব কিসে করিলে সাবাড়।
বিদায় কালে যে হাসি বলেছিল ভালোবাসি
তবুও যে ছেড়ে গেল শেষ কথা কহিবারে
পেলনা তো ক্ষ্ণটুকু কিছু দাড়াবার।
কত কাজ কত তাড়া কিছু তার হলো সারা
কিছু গেল ফেলে এই চরণে আসি।
বিদায় কালে যে হাসি বলেছিল ভালোবাসি
তবুও সে ছেড়ে গেল শেষ কথা কহিবারে
পেলনা তো ক্ষ্ণটুকু কিছু দাড়াবার।
২৩ অক্টোবর, ২০১৬

ভুলের মাঝে ঠিক ।। আল ফারুক

যা বলি সব ভুল বলি তাও বলতে যে মন চায়
আমার ভুলেরা ভুল হয়ে তবু ভুলকেই শোধরায়।
তুমি যত ভুল তার চেয়ে ভুল দেখেছি আমি পথে
আমরা সকলে ভুল পথে চলি ভুলের ভুবন রথে।
কেউ শত ভুল কেউ শত নয়, কেউ ভাবে সব ঠিক
কেউ জেনেশুনে হাস্য ব্যাকুল ফেলছে ভুলের পিক।
কেউ রাধা-রাম কেউ বা গোলাম কেউ হয়তো যিশু
ভুলের মানুষ ভুল না খুঁজে লাগছে তারই পিছু।
কেউ কোরানে কেউ পুরানে দেখছে প্রভুর কার
কেউবা প্রভুর গোষ্ঠী তুলে করছে তিরস্কার।
কে খুঁজেছে বিশ্বভুবন কোন শক্তির তালে
কোথায় ছিল কেমন ছিল আসলো কেন হালে?
কে খুঁজেছে কোন ইশারা বায়ুর পাকে বিশ্বময়
জল জোয়ারা আগুন-পাবন জন্ম-মৃত্যু সৃষ্টি হয়?
কে দিয়েছে সাগর জলে বাধার আড়াল বিপত্তি
কেউ কি আছেন কে ইশারা নইলে সেথায় কি সত্যি?
মহান জ্ঞানীর জন্ম হলো! স্রষ্ঠা নেই এই আবিস্কার
বিজ্ঞানী তাই মানতে হবে, নইলে যে ক্ষয় সভ্যতার!
কী প্রহসন একটু হাসুন, এই না মহান জ্ঞানী
মানব সেবার মহৎ কাজে মানতে নারাজ ধ্যানী।
কে সে মানব বলছি দানব বলছি তার আজ মুর্দাবাদ
মহান প্রভুর সেবক মানব, মানব তোমারই জিন্দাবাদ।
১৯ অক্টোবর, ২০১৬

নাবিক ।। আল ফারুক

উত্তাল জলে মৃত্যুরা করে চুরমার করা নাচ
পাষাণ পিশাচ উদ্দাম দুলে ভাঙ্গে হৃদয়ের কাঁচ
ভীতু যাত্রীরা নাবিকের পানে অসহায় চেয়ে রয়
ভয়ে ত্রাসে কাঁপে থর থর সব জাগে মৃত্যুর ভয়।
তুফানেরা আসে মৃত্যুরা হাসে সংশয় জাগে মনে
তরী ডুবে বুঝি সলিল সমাধি নিশ্চিত এই ক্ষণে।
গর্জন বাজে মারমার সাজে কেঁপে উঠে এই ধরা
ছুটে ছুটে আসে মরণের চিঠি হাতে ধরে হরকরা।
ছিড়ে যায় পাল ছুটে যায় হাল জলে ডোবে পাটাতন
ছুটাছুটি বাড়ে যাত্রীরা হারে মৃত্যুকে করে পণ।
শনশন বায়ু কনকন শীতে কেঁপে উঠে সারা দেহ
ছেড়া পালে তরী ডুবে যায় বুঝি নাবিক ছিল না কেহ!
অবাক বিশ্ব চেয়ে দেখে আজ নাবিকের হালচাল
মৃত্যকে যারা গলাগলি করে হাসি মুখে জুড়ে পাল।
১৭ অক্টোবর, ২০১৬

আলোকের প্রার্থনা ।। আল ফারুক

কিছুটা প্রদীপ জ্বেলে দিও এই মনে
যে দীপ জ্বলে আলোতে আঁধারে সদা
নিভেনা নিরন্তনে।
যে দীপ জ্বালাতে লাগেনা তেলের ধারা
সলতে পুরে হয়না ধোঁয়ার কালি
যে দীপ নিভেনা হাওয়ার ঝটক লেগে
আঁধার তাড়ায় জ্বলেই চিরন্তনে।
যে দীপ ছড়ায় দিক্বিদিকের পালে
নিভতে গিয়েও আরেকটি দীপ জ্বালে
আমায় দিও অমন দীপের আলো
লাগুক আলো আলোর ছোঁয়ায় ভালো
পড়বে মনে তোমায় তখন জানি
হঠাৎ কোন বদলা দিনের ক্ষণে।।
১৬ অক্টোবর, ২০১৬

জীবন মানে ।। আল ফারুক

জীবন মানে রঙিন আকাশ- নাটায় ছাড়া ঘুড়ি নয়
জীবন মানে কষ্ট মেখে সবকিছু কে করা জয়।
জীবন মানে আঘাত ভুলে হাসতে পারা হাসি
জীবন মানে বলতে পারা তোমায় ভালোবাসি।
জীবন মানে কে বলেছে মানব পরাজয়?
জীবন মানে কে বলেছে হারিয়ে হাওয়ার ভয়?
জীবন মানে কারোর সুখে বিলিয়ে দেওয়া সব
জীবন মানে কাউকে দেওয়া জয়ের কলোরব।
জীবন মানে আঘাত দিয়ে পালিয়ে যাওয়া নয়
জীবন মানে মুক্ত করা কারোর মনের ভয়।
৭ অক্টবর, ২০১২

বিশ্বলোকের মানুষ ।। আল ফারুক

সবাই কে আজ ভাই ডেকেছি সেই কি বিস্ময়ের!
আমি বিশ্বলোকের মানুষ আমি সকল মানুষের।
নেই'ক আমার দেশ যে কোথাও দশের লাগি হাসি
আমি বিশ্বলোকের মানুষ আমি মানুষ ভালোবাসি।
কোন বিধাতা মানুষ গড়েন, কে লিখে দেয় প্রান্ত-পাড়
মানুষ যিনি গড়েন হাতে- নিখিল ভুবন বিশ্ব তার।
বাঁধ দিয়েছ মাটির বুকে ভাগ করেছ নীল আকাশ
রুধিয়ে দেখাও বায়ুর গতি রোধ কর তার সর্বনাশ।
সূর্যটাকে ভাগ করে নাও চাঁদের আলোর জলরশ্মি
ভাগ করে নাও ঠান্ডা-গরম বিজ্ঞলোকের রাফ কষি।
জীবনটাকে ভাগ করে দাও সময় ঘড়ির নিক্তিতে
দুঃখ জ্বালা জীবন ক্ষুধা স্বর্গ নরক সিক্তিতে।
মৃত্যু জয়ের নাম করে কে করছো গরলতিক্ত পান
কে করেছ অসাড় দেহে নতুন প্রাণের শক্তি দান।
কে বিধাতা রুদ্ধ করে যুদ্ধে জয়েয় ভাগ্য কার
মানুষ তিনি গড়েন হাতে নিখিল ভুবন বিশ্ব যার।
বিশ্বলোকের বিশাল মাঝেই অবাক ফিরে আসি
আমি বিশ্বলোকের মানুষ আমি মানুষ ভালোবাসি।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

আমাদের বাঁচার মানে ।। আল ফারুক

আমরা যারা নীরেট বোকা
ধোঁকার মাঝে আছি।
আমরা শুধু বাঁচব বলে 
মৃত হয়েই বাঁচি।
আমাদের নেই'ক চাওয়া
শুধুই খাওয়া।
আমাদের নেই'ক স্বপ্ন
সুখের হাওয়া।
আমারা জীব জানোয়ার
পশুর মত আছি।
আমার শুধু বাঁচব বলে
মৃত হয়েই বাঁচি।
খুন কর কি বাঁচিয়ে রাখ
তাতেই মোদের কি?
মানুষ হলে জানব তবে
বাঁচার কারণ টি।
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

প্রেমের খাজনা ।। আল ফারুক

সংসারে এই বিনাশ করা
পুংদের বড় কাজ না
লক্ষী রমণী গোপন অলক্ষে
বাজায় ধ্বংস বাজনা।
কী দিব তারে মিছে সংসারে
উদাসী পুরুষ যারে
মায়াজালে পড়ে নিঃস্বপুরুষ
বিধাতার সংসারে।
দুর্গম বাঁধা হিংস্রশক্তি
ডরে কি পুরুষ ভাবনা?
আহারে হংস সকলি ধ্বংস
হংসী হারালে পাবনা।
রাজার রাজ্য কী হবে তার
যাক্‌ পুড়ে সব হোক ছারখার
মহান প্রেমের মহৎ প্রেমিক
দিবে আজ এই খাজনা।
এই যে সৃষ্টি রমণী দৃষ্টি
সরিলে হয়া না পূর্ণ
না বাধিলে তারে এই সংসারে
হবে যে সকলি চূর্ণ।
কে কেড়েছে ভয় এনে দিতে জয়
এই যে বৃহৎ রাজ্য
গড়েছে রমণী ভালোবাসা দিয়ে
পুরুষেরা সব বাহ্য।
সৃষ্টি সকলি রমণীর হাতে
পুংদের কোন কাজ না
সকলি প্রাপ্য ঋণের বোঝা
নারী নিবে তার খাজনা।
৩১ আগস্ট, ২০১৬

মহাবীর ।। আল ফারুক

বিপ্লব হেতু শির উঁচু করি দাঁড়ালে কে মহাশির
লক্ষ্যে অটুট দুর্গম পথে নির্ভীক স্থিত ধীর।
শোষণ পীড়ণ রুখে দিতে আজ রুষ্ট বিশ্ববীর
মুখে উঠে ধ্বনি উঁচু তর্জনী নারায়ে তাকবীর।
ভাঙ ভাঙ কারা পাষাণের ধারা উম্মাদ উম্মাদ
নিবি যারা আয় বুকপেতে আজ শহীদি মৃত্যু-স্বাদ।
হেকে আসে বীর দৃপ্ত পদে মৃত্যুরা পায় লজ্জা
কুরবানি দিতে মহাপ্রাণ হাসে কাফন পরা সজ্জা
কুরানের বাণী ধ্বনিত হৃদয়ে মুখের স্বর্গের হাসি
শঙ্কিত প্রাণে হিংসারা মরে ক্রোধে মিথ্যার-দাসি
অবিনাশী প্রাণ ফাঁসির কাষ্ঠে করে মৃত্যুর জয়
শপথের সাথীরা মরেনা কখনো মরে হয় অক্ষয়।
যুগবাণী যারা শুনাতে এসেছ তিমির রাত্রি ছেঁচে
মহাকালে তব ছায়া রবে পড়ে লক্ষ বছর বেঁচে।
পৃথিবীর বুকে ঢাকা পড়ে গেলে সূর্যের আলোখানি
গহীনে হারাবে আলোকের পথ সত্যের যুগবানী।
শোষণ পীড়ন রুখে দিতে জাগো পৃথিবীর মহাবীর
আল্লাহ্‌ মহান আল্লাহ্‌ মহান নারায়ে তাকবীর।
১৭ নভেম্বর, ২০১৬

Thursday, August 25, 2016

রাজভার ।। আল ফারুক

একদা কি কাজে ছিলে রাজা মহা ব্যস্ত
প্রজা ভারে করে যান মন্ত্রীকে ন্যাস্ত।
ফিরে না আসিলে আর রাজা তার রাজ্যে
মন্ত্রী তো রাজা সেজে রয়ে গেল বাহ্যে।
বহুকাল কেটে যায় রাজা তবে মন্ত্রী
ঢোল পিটে বলে দেয় রাজার এক যন্ত্রী।
শাষনের গুরু ভার নবরাজ হস্তে
শোষণে-পিষণে প্রজা পড়ে যায় দস্তে।
এমনে চলিলে দেশে এল দুর্ভিক্ষ
মারা গেল প্রজা-প্রাণী মারা গেল বৃক্ষ।
কোথা হতে সেথা এল বুড়ো এক দরবেশ
হাসি মাখা মুখ তার ক্লান্তির নেই ক্লেশ।
রাজা তারে দরবারে নিয়ে দিবে শাস্তি
এই ভেবে সভাসদে পড়ে গেল মাস্তি।
দরবেশ ছিল বেশ ছিল না যে চিহ্ন
সভাসদ ভাবে তারে রাজা নয় ভিন্ন।
দরবেশ হেসে বলে রাজা নাকি ভ্রান্ত
উপদেশ দিয়ে তারে বলে হতে শান্ত।
রাজা বলে আমি বড় এই মহা রাজ্যে
কে আমারে সাজা দেয় মিথ্যা কি ন্যায্যে।
দরবেশ ছেড়ে বেশ দিয়ে ওঠে চিৎকা্র
মন্ত্রী তো ভয়ে কাঁপে হয়ে যায় মৃৎসার।
রাজা বলে এই ছিল মনে তবে ফন্দী
প্রহরীরা ছুটে এসে কর এরে বন্দী।
রাজা তার রাজভার ফিরে নিলে হস্তে
প্রাণ পেল প্রজা সবে ছাড়া পেল দস্তে।
২৫ আগস্ট, ২০১৬ ।। মানুষের জন্যে

Wednesday, August 17, 2016

যাহা বলিব ।। আল ফারুক

একদিন এক প্রভাতকালে সূর্যদয়ের আগে
হাঁটিতে গিয়া মন্ত্রীমশায় দেশপ্রেম অনুরাগে
ভাবিতেছিলেন দেশের জন্য কত কী করেছি দেখি
হিসাব করিয়া বাহির করিব- কতটুক তার মেকি!
যাহা বলিব সত্য বলিব মিথ্যা বলিবার নয়
সজোরে কহিয়া থমকে দাঁড়ালেন মন্ত্রী মহাশয়।
সুযোগ বুঝিয়া বিবেক তাহার প্রশ্ন করিয়া বসে
বিবকে আজিকা বিচারক আর শুনিতে লাগিল দশে।
গাছ-পালা পাখি নির্মল বায়ু বয়ে চলা পথ ঘাট
সাক্ষী রহিল বোবা প্রাণীসব সবুজের বড় মাঠ।
সকলে চাহিয়া নীরব দৃষ্টি চারিদিকে হাহাকার
আইনই বুঝি আইনের লোক ধরে বসে এইবার।
কে দিবে মুক্তি কোন সে যুক্তি দিন কাটে বুঝি জেলে
সত্য কি চায় মিথ্যা জিতুক, মিথ্যাকে হাতে পেলে?
এইতো সেদিন বানভাসী লোক চাহিতে আসিল ত্রাণ
তাড়া খেয়ে সব ছুটিয়া চলিল বাঁচিয়া আপন প্রাণ।
মন্ত্রী বলিলে- এভাবে চলিলে থাকে কি কিছুই ঘরে?
রাজকোষ বুঝি ফাঁকা হয়ে যায় সকলি লইলে পরে।
পুলিশ-পেয়াদা নিয়া চল্‌ সব- এসব আমারই ধন
ছোটলোক সব যত দিব লবে- "পাব কি এদের মন?"
পথ ঘাট যত নিকট দূরে সকলি গপড়েছি আমি
বিস্তর মাঠ দূরে খেয়া ঘাট, আমি তার ভূ-স্বামী।
কিন্তু যে হায়! কোন সে উপায়- গড়েছি ধনের এ বর
এত কিছু সব আমার তো নয়! সকলি প্রজাদের কর।
সভয়ে বিষমে মন্ত্রী এবার ভাবিয়া চলিল কালে
একে একে সব ধরা পড়িল বিবেকের পাতা জালে।
হেন কালে তথা জোর করে কথা কহিলেন মহাশয়
যাহা বলিব মিথ্যা বলিব সত্য বলিবার নয়।
১৭ আগস্ট, ২০১৬ 

Wednesday, August 10, 2016

নবীনের গান ।। আল ফারুক

সুরের সাগর উতলে ঊঠে
আজ ডেকেছে জয়ের বান
জাগরে অলস অসাড় কুড়ে
গাইতে হবে প্রাণের গান।
মুখ ফুটে আজ বলতে হবে
চক্রবাকের বিষজ্বালা
ছিড়তে হবে বাধার শিকল
ভাংতে হবে যম তালা।
ঘুম ছেড়ে আজ পা বাড়িয়ে
সামনে দাঁড়া। ভয়টি কার?
আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন যাদের
পারবি তারাই, জয়টি তার।
আন্‌ ছিড়ে আন্‌ ভাগ্য নিশান
ভাগ্য তোদের বন্দী যে
কে সে পাগল মৃত্যু তাড়ায়
মৃত্যু জয় আজ করবি কে?
আয় দেখি কে পড়বি ফাঁসি
হাস্য মুখে গাইবি গান
জাগরে অলস অসাড় কুড়ে
আজ ডেকেছে জয়ের বান।
কে সে রাজা ডংকা বাজা
কাঁপিয়ে দে আজ বিশ্বকে
রাজমুকুট আজ পড়িয়ে দিব
সতেজ বাহুর নিঃস্বকে।
বল সে কারা পাগল পারা
দেশমাতাই মঙ্গলে
পাঠিয়ে দে সব সৃগাল-কুকুর
আফ্রিকার ঐ জঙ্গলে।

১০ আগস্ট, ২০১৬ ।। মানুষের জন্যে

Sunday, August 7, 2016

উভয় সংকট ।। আল ফারুক

আমরা যারা অতুল বাবু নিরীহ গোছের লোক সব লোকই যে ঠকায় মোদের বাড়ায় শুধুই শোক। সরকারি দল ঠকিয়ে বলে ভোট দেয়নি তাদের বিরোধী দল সুযোগ পেলেই ঠেঙিয়ে বলে কাদের? উপর মহল বলছে মোরা নিচ মহলের লোক আমরা বেজায় কষ্টে আছি কমায় কিসে শোক? নিচ মহলে তাড়িয়ে বেড়ায় সাহেব গোছের বলে আমরা যে ভাই কষ্টে আছি মরছি শোকেই জ্বলে। আমলা যারা কামলা খাটে সদায় ওরা সরকারি টোকায়-ক্যাডার ঝাঁকিয়ে চলে রাষ্ট্রে তারাই দরকারি। আমরা যারা অবোধ-গাধা নিরীহ গোছের লোক সদায় কেবল কষ্টে থাকি কমায় কিসে শোক?

৭ আগস্ট,২০১৬ 

Wednesday, August 3, 2016

অনুতাপ ।। আল ফারুক

আসিয়া এ ভব পাড়ে মানব রূপে
নাহি হলো সাধা কোন কাজ।
বেলা যে আসিল পড়ে-
সকলি পড়িল সরে।
ওরে! নাহি সহে তর।

নাহি অবসর আর
তব দিতে বর।
পৃথিবী ‘পরে নাহি’ক ঘরে
ভাগ্য গড়িয়া দিবে কোন কারিগর।

সকালে ভাবিনু মনে
তাড়া কেন? সবে-
সতেজ কায়াতে লাগে রঙ।
শিশুকাল পাড়ি দিয়ে সবে তো আসেছি আর
কৈশরেই কেন করি পণ?
পাব কি এমনও বেলা, করিতেছি কত খেলা!
কত তার সমাচার, কত তার ঢঙ!
মাঝবেলা যৌবনে কাটিল ভালো
কত শোভা, কত সুখ- সোনালী আলো।
কহে কত গুরুজন- উপদেশ বাণী
কোরান-পুরান, যিশু আর কুরবানি।
আমি কহি মহাশয় দেখি সব ভেবে
বুঝিনি তো গুরু বাণী, বুঝিনি তো দর।
নাহি অবসর আর
তব দিতে বর।
পৃথিবী ‘পরে নাহি’ক ঘরে
ভাগ্য গড়িয়া দিবে কোন কারিগর।

আজি এই শেষ ক্ষণে
কাহারে যে পড়ে মনে
কাহারে ডাকিয়া আমি করিব কদর?
শহর নগর গ্রাম
কাহারে করি প্রণাম।
তাহারে কোথা যে পাই
যাহারে দিব গো আমি আমার এই ধন?
কোথা সেই গুরুগণ কোথা সেই বাণী
কেহ যদি দিত ওরে, তাহারে আনি!
আমার এই শেষ বেলা শেষ প্রয়োজন।
এই ছিল শেষ কালে বিদায় বেলা
শেষ হয়ে তবু শেষ হলো না খেলা।
নাহি অবসর আর
তব দিতে বর।
পৃথিবী ‘পরে নাহি’ক ঘরে
ভাগ্য গড়িয়া দিবে কোন কারিগর।

৩ আগস্ট,২০১৬