Thursday, August 25, 2016

রাজভার ।। আল ফারুক

একদা কি কাজে ছিলে রাজা মহা ব্যস্ত
প্রজা ভারে করে যান মন্ত্রীকে ন্যাস্ত।
ফিরে না আসিলে আর রাজা তার রাজ্যে
মন্ত্রী তো রাজা সেজে রয়ে গেল বাহ্যে।
বহুকাল কেটে যায় রাজা তবে মন্ত্রী
ঢোল পিটে বলে দেয় রাজার এক যন্ত্রী।
শাষনের গুরু ভার নবরাজ হস্তে
শোষণে-পিষণে প্রজা পড়ে যায় দস্তে।
এমনে চলিলে দেশে এল দুর্ভিক্ষ
মারা গেল প্রজা-প্রাণী মারা গেল বৃক্ষ।
কোথা হতে সেথা এল বুড়ো এক দরবেশ
হাসি মাখা মুখ তার ক্লান্তির নেই ক্লেশ।
রাজা তারে দরবারে নিয়ে দিবে শাস্তি
এই ভেবে সভাসদে পড়ে গেল মাস্তি।
দরবেশ ছিল বেশ ছিল না যে চিহ্ন
সভাসদ ভাবে তারে রাজা নয় ভিন্ন।
দরবেশ হেসে বলে রাজা নাকি ভ্রান্ত
উপদেশ দিয়ে তারে বলে হতে শান্ত।
রাজা বলে আমি বড় এই মহা রাজ্যে
কে আমারে সাজা দেয় মিথ্যা কি ন্যায্যে।
দরবেশ ছেড়ে বেশ দিয়ে ওঠে চিৎকা্র
মন্ত্রী তো ভয়ে কাঁপে হয়ে যায় মৃৎসার।
রাজা বলে এই ছিল মনে তবে ফন্দী
প্রহরীরা ছুটে এসে কর এরে বন্দী।
রাজা তার রাজভার ফিরে নিলে হস্তে
প্রাণ পেল প্রজা সবে ছাড়া পেল দস্তে।
২৫ আগস্ট, ২০১৬ ।। মানুষের জন্যে

Wednesday, August 17, 2016

যাহা বলিব ।। আল ফারুক

একদিন এক প্রভাতকালে সূর্যদয়ের আগে
হাঁটিতে গিয়া মন্ত্রীমশায় দেশপ্রেম অনুরাগে
ভাবিতেছিলেন দেশের জন্য কত কী করেছি দেখি
হিসাব করিয়া বাহির করিব- কতটুক তার মেকি!
যাহা বলিব সত্য বলিব মিথ্যা বলিবার নয়
সজোরে কহিয়া থমকে দাঁড়ালেন মন্ত্রী মহাশয়।
সুযোগ বুঝিয়া বিবেক তাহার প্রশ্ন করিয়া বসে
বিবকে আজিকা বিচারক আর শুনিতে লাগিল দশে।
গাছ-পালা পাখি নির্মল বায়ু বয়ে চলা পথ ঘাট
সাক্ষী রহিল বোবা প্রাণীসব সবুজের বড় মাঠ।
সকলে চাহিয়া নীরব দৃষ্টি চারিদিকে হাহাকার
আইনই বুঝি আইনের লোক ধরে বসে এইবার।
কে দিবে মুক্তি কোন সে যুক্তি দিন কাটে বুঝি জেলে
সত্য কি চায় মিথ্যা জিতুক, মিথ্যাকে হাতে পেলে?
এইতো সেদিন বানভাসী লোক চাহিতে আসিল ত্রাণ
তাড়া খেয়ে সব ছুটিয়া চলিল বাঁচিয়া আপন প্রাণ।
মন্ত্রী বলিলে- এভাবে চলিলে থাকে কি কিছুই ঘরে?
রাজকোষ বুঝি ফাঁকা হয়ে যায় সকলি লইলে পরে।
পুলিশ-পেয়াদা নিয়া চল্‌ সব- এসব আমারই ধন
ছোটলোক সব যত দিব লবে- "পাব কি এদের মন?"
পথ ঘাট যত নিকট দূরে সকলি গপড়েছি আমি
বিস্তর মাঠ দূরে খেয়া ঘাট, আমি তার ভূ-স্বামী।
কিন্তু যে হায়! কোন সে উপায়- গড়েছি ধনের এ বর
এত কিছু সব আমার তো নয়! সকলি প্রজাদের কর।
সভয়ে বিষমে মন্ত্রী এবার ভাবিয়া চলিল কালে
একে একে সব ধরা পড়িল বিবেকের পাতা জালে।
হেন কালে তথা জোর করে কথা কহিলেন মহাশয়
যাহা বলিব মিথ্যা বলিব সত্য বলিবার নয়।
১৭ আগস্ট, ২০১৬ 

Wednesday, August 10, 2016

নবীনের গান ।। আল ফারুক

সুরের সাগর উতলে ঊঠে
আজ ডেকেছে জয়ের বান
জাগরে অলস অসাড় কুড়ে
গাইতে হবে প্রাণের গান।
মুখ ফুটে আজ বলতে হবে
চক্রবাকের বিষজ্বালা
ছিড়তে হবে বাধার শিকল
ভাংতে হবে যম তালা।
ঘুম ছেড়ে আজ পা বাড়িয়ে
সামনে দাঁড়া। ভয়টি কার?
আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন যাদের
পারবি তারাই, জয়টি তার।
আন্‌ ছিড়ে আন্‌ ভাগ্য নিশান
ভাগ্য তোদের বন্দী যে
কে সে পাগল মৃত্যু তাড়ায়
মৃত্যু জয় আজ করবি কে?
আয় দেখি কে পড়বি ফাঁসি
হাস্য মুখে গাইবি গান
জাগরে অলস অসাড় কুড়ে
আজ ডেকেছে জয়ের বান।
কে সে রাজা ডংকা বাজা
কাঁপিয়ে দে আজ বিশ্বকে
রাজমুকুট আজ পড়িয়ে দিব
সতেজ বাহুর নিঃস্বকে।
বল সে কারা পাগল পারা
দেশমাতাই মঙ্গলে
পাঠিয়ে দে সব সৃগাল-কুকুর
আফ্রিকার ঐ জঙ্গলে।

১০ আগস্ট, ২০১৬ ।। মানুষের জন্যে

Sunday, August 7, 2016

উভয় সংকট ।। আল ফারুক

আমরা যারা অতুল বাবু নিরীহ গোছের লোক সব লোকই যে ঠকায় মোদের বাড়ায় শুধুই শোক। সরকারি দল ঠকিয়ে বলে ভোট দেয়নি তাদের বিরোধী দল সুযোগ পেলেই ঠেঙিয়ে বলে কাদের? উপর মহল বলছে মোরা নিচ মহলের লোক আমরা বেজায় কষ্টে আছি কমায় কিসে শোক? নিচ মহলে তাড়িয়ে বেড়ায় সাহেব গোছের বলে আমরা যে ভাই কষ্টে আছি মরছি শোকেই জ্বলে। আমলা যারা কামলা খাটে সদায় ওরা সরকারি টোকায়-ক্যাডার ঝাঁকিয়ে চলে রাষ্ট্রে তারাই দরকারি। আমরা যারা অবোধ-গাধা নিরীহ গোছের লোক সদায় কেবল কষ্টে থাকি কমায় কিসে শোক?

৭ আগস্ট,২০১৬ 

Wednesday, August 3, 2016

অনুতাপ ।। আল ফারুক

আসিয়া এ ভব পাড়ে মানব রূপে
নাহি হলো সাধা কোন কাজ।
বেলা যে আসিল পড়ে-
সকলি পড়িল সরে।
ওরে! নাহি সহে তর।

নাহি অবসর আর
তব দিতে বর।
পৃথিবী ‘পরে নাহি’ক ঘরে
ভাগ্য গড়িয়া দিবে কোন কারিগর।

সকালে ভাবিনু মনে
তাড়া কেন? সবে-
সতেজ কায়াতে লাগে রঙ।
শিশুকাল পাড়ি দিয়ে সবে তো আসেছি আর
কৈশরেই কেন করি পণ?
পাব কি এমনও বেলা, করিতেছি কত খেলা!
কত তার সমাচার, কত তার ঢঙ!
মাঝবেলা যৌবনে কাটিল ভালো
কত শোভা, কত সুখ- সোনালী আলো।
কহে কত গুরুজন- উপদেশ বাণী
কোরান-পুরান, যিশু আর কুরবানি।
আমি কহি মহাশয় দেখি সব ভেবে
বুঝিনি তো গুরু বাণী, বুঝিনি তো দর।
নাহি অবসর আর
তব দিতে বর।
পৃথিবী ‘পরে নাহি’ক ঘরে
ভাগ্য গড়িয়া দিবে কোন কারিগর।

আজি এই শেষ ক্ষণে
কাহারে যে পড়ে মনে
কাহারে ডাকিয়া আমি করিব কদর?
শহর নগর গ্রাম
কাহারে করি প্রণাম।
তাহারে কোথা যে পাই
যাহারে দিব গো আমি আমার এই ধন?
কোথা সেই গুরুগণ কোথা সেই বাণী
কেহ যদি দিত ওরে, তাহারে আনি!
আমার এই শেষ বেলা শেষ প্রয়োজন।
এই ছিল শেষ কালে বিদায় বেলা
শেষ হয়ে তবু শেষ হলো না খেলা।
নাহি অবসর আর
তব দিতে বর।
পৃথিবী ‘পরে নাহি’ক ঘরে
ভাগ্য গড়িয়া দিবে কোন কারিগর।

৩ আগস্ট,২০১৬