Thursday, March 23, 2017

নারীমন ।। আল ফারুক


তোমার নাম কী গো-
অমন ঢ্যাপ ঢ্যাপ চোখে চেয়ে থাক।
কিছু বলবে মনে হয়?
কথাগুলো কেমন করে চেপে থাকো-
নারীকুলের এই এক ভীষোণ কষ্ট।
সব কথা বলা যায় না বলেই চেপে যায়।
আর এক দিন কোন মেঘ জমা দুপুরে
বুকের ভিতরে গুমরে থাকা কষ্টগুলো
শ্রাবণের বিরামহীন জল হয়ে সমুদ্রে মিশে।
হালকা বুকের কোঠরটা আবার আশায় ভরে ওঠে।
কোন শিউলি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে নতুন স্বপ্ন বুনো।
চেয়ে দেখ অচেনা পথিক।
চেনা চেনা মনে হয় তাই না?
তোমার কি জানতে ইচ্ছে হয় না?
পথিকের নাম কী? কোথায় প্রথম দেখেছিলে?
১৭ এপ্রিল, ২০১৭

বাহ্‌ কী বিস্ময়! ।। আল ফারুক


বাহ্‌ কী বিস্ময়!
গত হয় আরেকটি বছর।
সৌভাগ্যের বর্ষপুঞ্জি খুলে দাগ কাটি নতুন পথের-
জীবনের বালুকাময় পথের পদচিহ্নগুলো মিলিয়ে যায়।
চোখ বুজলেই স্মৃতি হয়ে ভেসে আসে ঘুমন্ত অতীত।
কিছু অতীতের কাছে ফিরে যেতে কুঁকিয়ে ওঠে
পক্ক দেহে লুকিয়ে থাকা শিশু মন।
জানি সে হবে না। কিছুতেই হবার নয়।
তবুও শিহরণ জাগে, কী বিস্ময়!
সামনের সুদীর্ঘ পথ হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত মন
বে-খেয়ালী হয়ে মুসাফিরের পথ ফুরোয়।
সব ইতিহাস হয়, ক'ফোঁটা সুলভ্য অশ্রুর বিনিময়ে
হাহুতাস করি অতীতের কাছে গিয়ে।
তবুও সব হয় শেষ, কী বিস্ময়!

এক টুকরো খন্ডিত প্রশ্ন ।। আল ফারুক


এমন ভালোবাসা সত্যিই কি চেয়েছি-
ধূসর সাদাকালো সুবাসহীন গুল্মের মত!
সামান্য অবিশ্বাসের হাওয়া লেগেই উড়ে চলে
বিভ্রান্ত পঙ্গপালের সীমাহীন দিগন্তে।
কালো চোখের মায়াবী জাদু কী করে পথ হারায়
ভাবুক হৃদয়ে জাগায় শঙ্কার ঢেউ।
কী করে অচেনা হয় চির চেনা ঠোঁটের হাসি
রহস্যময়ী মানবি তুমি সত্যিই চেনা কেউ?
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

Thursday, February 2, 2017

হৃদয় পাষাণ ।। আল ফারুক

পাষাণে ভেঙ্গেছে ঘর
আপনে গিয়েছে ফেলি
খড়কুটো আমার আশ্রয়।
সুখের ক্লান্তি ঝেড়ে
দুঃখকে জলকেলি
তাইতো কিছুতে নেই ভয়।
কাছে যারা ছিলো কাল
আজ তারা হেলা করে
সুখ যে করেছে তারা জয়।
ধিক্কারে ধিক্কারে
আমার এ জীবন তরে
ক্ষয়ে ক্ষয়ে যা রয়েছে লয়।
মানুষেরা ভাবে বুঝি
আমার সকলি কায়া
তাই সবে এতো নির্দয়।
এ ধরে যে মন আছে
তাতে কি নেই'ক মায়া
আমি বুঝি পাষাণ হৃদয়!
৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

রাজনীতি ।। আল ফারুক

রাজনীতি তো রাজার নীতি
আমরা প্রজা যারা-ই-
গুম, হত্যা লাশ হয়ে যাই
সঠিক কারণ ছাড়াই।
আছেন তারা রাজ্য নিয়ে
গড়তে হবে দেশ।
আমরা প্রজা মরলে তাদের
কিসের চিন্তা-লেশ?
মারেন বোমা, ফাঁড়েন বডি
দরকার আছে- রাজ্য-গদি!!
পুড়লো না হয় সস্তা মানুষ
এই তো বাংলাদেশ।
৩১ জানুয়ারি, ২০১৫

নিরুত্তর ।। আল ফারুক

গতকালের পুষ্প ঝড়ে বাসি হয়ে গেছে
আজ তারা মূল্যহীন, আজ তারা কলঙ্ক।
আজ নতুন ফুলের মো মো গন্ধে মাতাল ধরা
হাজারও ভ্রমর গান গেয়ে রেণু ছুঁয়েছে-
ভ্রমর যৌবনের গান গায়, জরা কে দেয় লজ্জা।
গতকালের যত লেনাদেনা- আর কোন হালখাতা নয়-
গত কে দূরে ঠেলে দেয়, আজ তার নয় বিনিময়।
বাসি ফুলে হয় না পূজা, দেবতারা অখুশি
পুরোহিত মন্ত্র পঠে না, "দূর হ- এ ফুল বাসি"।
বাসি ফুল বাসি ফুল বাসি ফুলে বাধা
সময়ের গতি এসে পেতে দিল ধাঁধাঁ।
এ দোষ কে নিবে তবে ফুল না সময় ?
জ্ঞানী তা নীরেব শোনে, মূর্খ যা কয়।
২৬ জানুয়ারি, ২০১৭

আলো-আঁধারের খেলা ।। আল ফারুক

দিবালোতে যা দেখি এ আঁখিতে
সব মেকি তা সত্য নয়।
আঁধার ঘনালে পাপেরা মুক্ত
সত্যেরা সব বন্দি হয়।
সভ্য সাধুরা মুখোশ লুকিয়ে
হেসে ওঠে হাসি খিলখিল
দিনে দেখি যত কাকের খোলসে
রাতে ওরা করে ঝিলমিল।
দিনে দেবী যারা ভক্তি কুড়ালো
রাতে হয় বলি অধমে।
বিধিবাম হয় দিনের স্বর্গ
নিশি পিষে যায় কদমে।
২২ জানুয়ারি, ২০১৭

বকধার্মিক ।। আল ফারুক


আহা কী সভ্যতা! কী যে সভ্য এ জাতি!!
বঙ্গবাহাদুর খেতাব পেয়েছে ভারতের এক হাতি।
কত ভালোবাসা কত প্রাণীপ্রেম ছুটাছুটি কত জলে
হা-ভাতে মানুষ উপোস করেছে হাতি ধরা হবে কলে।
এই না বাঙালি জাতি!
কেঁদে কেটে সব পুকুর ভরালো মারা গেলে যেই হাতি।
হাতি বলে কথা মহাপ্রাণ সে, মানুষের চেয়ে দামি!
ফেলানিরা কেবল মরে বেঁচে যায়, বাঁচে তার গৃহস্বামী।
জল ফেলা কেন ভুখা মানুষের অনাহারে যারা বাঁচে
বড়বাবুরা চেয়ে চেয়ে হাসে ছোটবাবুদের নাচে।
মানুষের প্রাণ কত তার দাম, কাঁটাতারে লাগে রক্ত
তবুও আমরা দেশপ্রেমী বটে, অটল এ মন হয় শক্ত।
২ জানুয়ারি, ২০১৭