Thursday, November 17, 2016

মহাবীর ।। আল ফারুক

বিপ্লব হেতু শির উঁচু করি দাঁড়ালে কে মহাশির
লক্ষ্যে অটুট দুর্গম পথে নির্ভীক স্থিত ধীর।
শোষণ পীড়ণ রুখে দিতে আজ রুষ্ট বিশ্ববীর
মুখে উঠে ধ্বনি উঁচু তর্জনী নারায়ে তাকবীর।
ভাঙ ভাঙ কারা পাষাণের ধারা উম্মাদ উম্মাদ
নিবি যারা আয় বুকপেতে আজ শহীদি মৃত্যু-স্বাদ।
হেকে আসে বীর দৃপ্ত পদে মৃত্যুরা পায় লজ্জা
কুরবানি দিতে মহাপ্রাণ হাসে কাফন পরা সজ্জা
কুরানের বাণী ধ্বনিত হৃদয়ে মুখের স্বর্গের হাসি
শঙ্কিত প্রাণে হিংসারা মরে ক্রোধে মিথ্যার-দাসি
অবিনাশী প্রাণ ফাঁসির কাষ্ঠে করে মৃত্যুর জয়
শপথের সাথীরা মরেনা কখনো মরে হয় অক্ষয়।
যুগবাণী যারা শুনাতে এসেছ তিমির রাত্রি ছেঁচে
মহাকালে তব ছায়া রবে পড়ে লক্ষ বছর বেঁচে।
পৃথিবীর বুকে ঢাকা পড়ে গেলে সূর্যের আলোখানি
গহীনে হারাবে আলোকের পথ সত্যের যুগবানী।
শোষণ পীড়ন রুখে দিতে জাগো পৃথিবীর মহাবীর
আল্লাহ্‌ মহান আল্লাহ্‌ মহান নারায়ে তাকবীর।
১৭ নভেম্বর, ২০১৬

আমার ঈশ্বর ।। আল ফারুক

আমার ঈশ্বর অবিনশ্বর
যায় না তাঁকে গড়া।
আমার ঈশ্বর জগদীশ্বর
যায় না তাঁকেও ধরা।
আমার ঈশ্বর মহানীশ্বর
রোধে বায়ু ঝড় গর্জন
আমার ঈশ্বর অবিনশ্বর
হয় না সে বিসর্জন।
আমার ঈশ্বর আদি-অন্ত
নেই তার কোন অংশ
আমার ঈশ্বর এক ও অসীম
নেই পিতা নেই বংশ।
আমার ঈশ্বর বিশ্বেশ্বর
বিশ্বে ব্যাপ্তি তাঁর
আমার ঈশ্বর মৃত্যুঞ্জয়ী
নেই তাঁর সংহার।
১৪ নভেম্বর, ২০১৬

প্রার্থনা ।। আল ফারুক

ঘরের বাহির হয়ে বাঁধা পড়ি কত ভয়ে
এ জগতে সবি অচেনা
কত শত চেনা মুখ আড়ালের সুখ দুঃখ
বিধাতা হে তাও ঘোচেনা।
আমারে কর হে ক্ষমা যত কিছু হলো জমা
আমার এই ক্ষণ পলকে
এবারে মুক্তি দাও যাহা তুমি ত্রুটি পাও
তা না হলে দিবে বলো কে?
অধম হয়েছি বলে যেও না গো পথে ফেলে
আমার এই মিনতি বলি
আমার এই হীন মন না চিনে সে খাঁটি ধন
তাই আজ বিপথে চলি।
মিটে দাও ক্ষুধা ভয় মনের এত সংশয়
দাও তব অমর বাণী
আমারে খর্ব করো আমারে মুক্ত করো
ফেলো তব চরণে আনি।
৩ নভেম্বর, ২০১৬

জন্মদিনের শুভেচ্ছা ।। আল ফারুক

মুছে যাক প্রিয়া চোখের নিচে জুমে থাকা কালো কালি
সম্মুখে এসে গোলাপ ছড়িয়ে শুভদিনে হাততালি।
এ আমার শুভেচ্ছা নয় হাজার বছরের ভালোবাসা
এ যেন তোমার বন্ধন ছুটে আরো বেশি কাছে আসা।
দূরত্ব যত থাক- দূরত্ব এ যেন সবটায় অনন্ত ভুল
দূরত্ব যত হোক- এ যেন বিশাল সাগরের দুটি কূল।
হোক না দূরে এ তো এক অভিন্ন বিশালের দুটি ধার
বায়ু মেঘে জলে বিশালের মাঝে হয়ে আছি একাকার।
কাছে থাকি পাশে থাকি থাকি যেথা আরো যত দূর
ভেসে যাবে সুখ শোকের ছায়ায় তব কথা মোর সুর।
মনে যদি পড়ে হৃদয়ের মাঝে প্রগাঢ় কি ভাসা ভাসা
ধরে নিও আমিই ছিলাম তথায় হয়ে সেই ভালোবাসা।
পৃথিবীর 'পরে নাহি যদি রয় আমার এই কায়া ভার
মনে করে নিও ওপাড় হতেও আভা রবে শ্রদ্ধার।
আমার এই মুখখানি মনে পড়ে যাবে ঘনিলে আঁধার
আমি রব ঘুমে মায়া হয়ে ভূমে না ফিরিলে তবু আর।
হাজার বছর পরে আবার তোমাতে ঝরে শিশিরের জল
পুষ্প পাঁপড়ি নেড়ে আমার এই ভালোবাসা করবে সে ছল।
৩১ অক্টোবর, ২০১৬

পরিচয় ।। আল ফারুক

ঘৃণা করে ছোট বলে লজ্জা দিলে
তাতে কি বেড়েছে তব মান?
আমি যে মানব শিশু বিধাতার গড়া
আমাতে রয়েছে ভগবান।
আমি হেথা ছোট নই ক্ষুদ্র বলে
বিশালের নিমেষ প্রকাশ
দ্রোহে-তাপে শোকে-শাপে পিষ্ট বলে
লোভে লাভে নেই অবকাশ।
তোমাতে কি আছে বেশি মৃতিকাময়
কিসে হলে সেরা তবে আজ
এসেছ শূন্য হাতে যাবে কিছু তব সাথে
পড়ে রবে তোমার এই সাজ।
(অসমাপ্ত)
২৬ অক্টোবর, ২০১৬

শেষ যাত্রা ।। আল ফারুক

কিছু তার গুনে যদি পড়ে মনে ডাকিব আবার
এই খেলাঘর আপন কি পর ফিরিয়া পাবার?
যে গিয়াছে চলি ভরে অঞ্জলি দুমুঠো সুখে
আসিলে আসিতে পারে তব দ্বারে তব দুখে
বুক পেতে হাসি মুখে সব হারাবার।
তা বলে কি পাবে তারে বিধাতার এ সংসারে
যে গিয়াছে সব ছেড়ে- ফিরিয়া আবার?
হাসি মাখা দিনগুলি ফেলিয়া যে গেল ভুলি
তাহারে ফিরাব কিসে করিলে সাবাড়।
বিদায় কালে যে হাসি বলেছিল ভালোবাসি
তবুও যে ছেড়ে গেল শেষ কথা কহিবারে
পেলনা তো ক্ষ্ণটুকু কিছু দাড়াবার।
কত কাজ কত তাড়া কিছু তার হলো সারা
কিছু গেল ফেলে এই চরণে আসি।
বিদায় কালে যে হাসি বলেছিল ভালোবাসি
তবুও সে ছেড়ে গেল শেষ কথা কহিবারে
পেলনা তো ক্ষ্ণটুকু কিছু দাড়াবার।
২৩ অক্টোবর, ২০১৬

ভুলের মাঝে ঠিক ।। আল ফারুক

যা বলি সব ভুল বলি তাও বলতে যে মন চায়
আমার ভুলেরা ভুল হয়ে তবু ভুলকেই শোধরায়।
তুমি যত ভুল তার চেয়ে ভুল দেখেছি আমি পথে
আমরা সকলে ভুল পথে চলি ভুলের ভুবন রথে।
কেউ শত ভুল কেউ শত নয়, কেউ ভাবে সব ঠিক
কেউ জেনেশুনে হাস্য ব্যাকুল ফেলছে ভুলের পিক।
কেউ রাধা-রাম কেউ বা গোলাম কেউ হয়তো যিশু
ভুলের মানুষ ভুল না খুঁজে লাগছে তারই পিছু।
কেউ কোরানে কেউ পুরানে দেখছে প্রভুর কার
কেউবা প্রভুর গোষ্ঠী তুলে করছে তিরস্কার।
কে খুঁজেছে বিশ্বভুবন কোন শক্তির তালে
কোথায় ছিল কেমন ছিল আসলো কেন হালে?
কে খুঁজেছে কোন ইশারা বায়ুর পাকে বিশ্বময়
জল জোয়ারা আগুন-পাবন জন্ম-মৃত্যু সৃষ্টি হয়?
কে দিয়েছে সাগর জলে বাধার আড়াল বিপত্তি
কেউ কি আছেন কে ইশারা নইলে সেথায় কি সত্যি?
মহান জ্ঞানীর জন্ম হলো! স্রষ্ঠা নেই এই আবিস্কার
বিজ্ঞানী তাই মানতে হবে, নইলে যে ক্ষয় সভ্যতার!
কী প্রহসন একটু হাসুন, এই না মহান জ্ঞানী
মানব সেবার মহৎ কাজে মানতে নারাজ ধ্যানী।
কে সে মানব বলছি দানব বলছি তার আজ মুর্দাবাদ
মহান প্রভুর সেবক মানব, মানব তোমারই জিন্দাবাদ।
১৯ অক্টোবর, ২০১৬

নাবিক ।। আল ফারুক

উত্তাল জলে মৃত্যুরা করে চুরমার করা নাচ
পাষাণ পিশাচ উদ্দাম দুলে ভাঙ্গে হৃদয়ের কাঁচ
ভীতু যাত্রীরা নাবিকের পানে অসহায় চেয়ে রয়
ভয়ে ত্রাসে কাঁপে থর থর সব জাগে মৃত্যুর ভয়।
তুফানেরা আসে মৃত্যুরা হাসে সংশয় জাগে মনে
তরী ডুবে বুঝি সলিল সমাধি নিশ্চিত এই ক্ষণে।
গর্জন বাজে মারমার সাজে কেঁপে উঠে এই ধরা
ছুটে ছুটে আসে মরণের চিঠি হাতে ধরে হরকরা।
ছিড়ে যায় পাল ছুটে যায় হাল জলে ডোবে পাটাতন
ছুটাছুটি বাড়ে যাত্রীরা হারে মৃত্যুকে করে পণ।
শনশন বায়ু কনকন শীতে কেঁপে উঠে সারা দেহ
ছেড়া পালে তরী ডুবে যায় বুঝি নাবিক ছিল না কেহ!
অবাক বিশ্ব চেয়ে দেখে আজ নাবিকের হালচাল
মৃত্যকে যারা গলাগলি করে হাসি মুখে জুড়ে পাল।
১৭ অক্টোবর, ২০১৬

আলোকের প্রার্থনা ।। আল ফারুক

কিছুটা প্রদীপ জ্বেলে দিও এই মনে
যে দীপ জ্বলে আলোতে আঁধারে সদা
নিভেনা নিরন্তনে।
যে দীপ জ্বালাতে লাগেনা তেলের ধারা
সলতে পুরে হয়না ধোঁয়ার কালি
যে দীপ নিভেনা হাওয়ার ঝটক লেগে
আঁধার তাড়ায় জ্বলেই চিরন্তনে।
যে দীপ ছড়ায় দিক্বিদিকের পালে
নিভতে গিয়েও আরেকটি দীপ জ্বালে
আমায় দিও অমন দীপের আলো
লাগুক আলো আলোর ছোঁয়ায় ভালো
পড়বে মনে তোমায় তখন জানি
হঠাৎ কোন বদলা দিনের ক্ষণে।।
১৬ অক্টোবর, ২০১৬

জীবন মানে ।। আল ফারুক

জীবন মানে রঙিন আকাশ- নাটায় ছাড়া ঘুড়ি নয়
জীবন মানে কষ্ট মেখে সবকিছু কে করা জয়।
জীবন মানে আঘাত ভুলে হাসতে পারা হাসি
জীবন মানে বলতে পারা তোমায় ভালোবাসি।
জীবন মানে কে বলেছে মানব পরাজয়?
জীবন মানে কে বলেছে হারিয়ে হাওয়ার ভয়?
জীবন মানে কারোর সুখে বিলিয়ে দেওয়া সব
জীবন মানে কাউকে দেওয়া জয়ের কলোরব।
জীবন মানে আঘাত দিয়ে পালিয়ে যাওয়া নয়
জীবন মানে মুক্ত করা কারোর মনের ভয়।
৭ অক্টবর, ২০১২

বিশ্বলোকের মানুষ ।। আল ফারুক

সবাই কে আজ ভাই ডেকেছি সেই কি বিস্ময়ের!
আমি বিশ্বলোকের মানুষ আমি সকল মানুষের।
নেই'ক আমার দেশ যে কোথাও দশের লাগি হাসি
আমি বিশ্বলোকের মানুষ আমি মানুষ ভালোবাসি।
কোন বিধাতা মানুষ গড়েন, কে লিখে দেয় প্রান্ত-পাড়
মানুষ যিনি গড়েন হাতে- নিখিল ভুবন বিশ্ব তার।
বাঁধ দিয়েছ মাটির বুকে ভাগ করেছ নীল আকাশ
রুধিয়ে দেখাও বায়ুর গতি রোধ কর তার সর্বনাশ।
সূর্যটাকে ভাগ করে নাও চাঁদের আলোর জলরশ্মি
ভাগ করে নাও ঠান্ডা-গরম বিজ্ঞলোকের রাফ কষি।
জীবনটাকে ভাগ করে দাও সময় ঘড়ির নিক্তিতে
দুঃখ জ্বালা জীবন ক্ষুধা স্বর্গ নরক সিক্তিতে।
মৃত্যু জয়ের নাম করে কে করছো গরলতিক্ত পান
কে করেছ অসাড় দেহে নতুন প্রাণের শক্তি দান।
কে বিধাতা রুদ্ধ করে যুদ্ধে জয়েয় ভাগ্য কার
মানুষ তিনি গড়েন হাতে নিখিল ভুবন বিশ্ব যার।
বিশ্বলোকের বিশাল মাঝেই অবাক ফিরে আসি
আমি বিশ্বলোকের মানুষ আমি মানুষ ভালোবাসি।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

আমাদের বাঁচার মানে ।। আল ফারুক

আমরা যারা নীরেট বোকা
ধোঁকার মাঝে আছি।
আমরা শুধু বাঁচব বলে 
মৃত হয়েই বাঁচি।
আমাদের নেই'ক চাওয়া
শুধুই খাওয়া।
আমাদের নেই'ক স্বপ্ন
সুখের হাওয়া।
আমারা জীব জানোয়ার
পশুর মত আছি।
আমার শুধু বাঁচব বলে
মৃত হয়েই বাঁচি।
খুন কর কি বাঁচিয়ে রাখ
তাতেই মোদের কি?
মানুষ হলে জানব তবে
বাঁচার কারণ টি।
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

প্রেমের খাজনা ।। আল ফারুক

সংসারে এই বিনাশ করা
পুংদের বড় কাজ না
লক্ষী রমণী গোপন অলক্ষে
বাজায় ধ্বংস বাজনা।
কী দিব তারে মিছে সংসারে
উদাসী পুরুষ যারে
মায়াজালে পড়ে নিঃস্বপুরুষ
বিধাতার সংসারে।
দুর্গম বাঁধা হিংস্রশক্তি
ডরে কি পুরুষ ভাবনা?
আহারে হংস সকলি ধ্বংস
হংসী হারালে পাবনা।
রাজার রাজ্য কী হবে তার
যাক্‌ পুড়ে সব হোক ছারখার
মহান প্রেমের মহৎ প্রেমিক
দিবে আজ এই খাজনা।
এই যে সৃষ্টি রমণী দৃষ্টি
সরিলে হয়া না পূর্ণ
না বাধিলে তারে এই সংসারে
হবে যে সকলি চূর্ণ।
কে কেড়েছে ভয় এনে দিতে জয়
এই যে বৃহৎ রাজ্য
গড়েছে রমণী ভালোবাসা দিয়ে
পুরুষেরা সব বাহ্য।
সৃষ্টি সকলি রমণীর হাতে
পুংদের কোন কাজ না
সকলি প্রাপ্য ঋণের বোঝা
নারী নিবে তার খাজনা।
৩১ আগস্ট, ২০১৬

মহাবীর ।। আল ফারুক

বিপ্লব হেতু শির উঁচু করি দাঁড়ালে কে মহাশির
লক্ষ্যে অটুট দুর্গম পথে নির্ভীক স্থিত ধীর।
শোষণ পীড়ণ রুখে দিতে আজ রুষ্ট বিশ্ববীর
মুখে উঠে ধ্বনি উঁচু তর্জনী নারায়ে তাকবীর।
ভাঙ ভাঙ কারা পাষাণের ধারা উম্মাদ উম্মাদ
নিবি যারা আয় বুকপেতে আজ শহীদি মৃত্যু-স্বাদ।
হেকে আসে বীর দৃপ্ত পদে মৃত্যুরা পায় লজ্জা
কুরবানি দিতে মহাপ্রাণ হাসে কাফন পরা সজ্জা
কুরানের বাণী ধ্বনিত হৃদয়ে মুখের স্বর্গের হাসি
শঙ্কিত প্রাণে হিংসারা মরে ক্রোধে মিথ্যার-দাসি
অবিনাশী প্রাণ ফাঁসির কাষ্ঠে করে মৃত্যুর জয়
শপথের সাথীরা মরেনা কখনো মরে হয় অক্ষয়।
যুগবাণী যারা শুনাতে এসেছ তিমির রাত্রি ছেঁচে
মহাকালে তব ছায়া রবে পড়ে লক্ষ বছর বেঁচে।
পৃথিবীর বুকে ঢাকা পড়ে গেলে সূর্যের আলোখানি
গহীনে হারাবে আলোকের পথ সত্যের যুগবানী।
শোষণ পীড়ন রুখে দিতে জাগো পৃথিবীর মহাবীর
আল্লাহ্‌ মহান আল্লাহ্‌ মহান নারায়ে তাকবীর।
১৭ নভেম্বর, ২০১৬